শ্রীপুরের লিচু বাগান শূন্য

0

প্রবল শিলাবৃষ্টিতে অন্য গাছের সঙ্গে লিচুগাছের মুকুলসহ পাতাও ঝরে গেছে। অনেক গাছ আবার গোড়া থেকে উপড়ে গেছে।

হাজার হাজার মানুষ এবার লিচু নির্ভর জীবিকা নির্বাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। লিচুর মুকুল পরিপক্ব হওয়ার শুরুতেই শিলাবৃষ্টিতে গাজীপুরের শ্রীপুরের বাগান মালিকরা এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে শ্রীপুর পৌরসভা ও তেলিহাটী ইউনিয়নের বাগান মালিকরা এমন ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন সবচেয়ে বেশি।

আলমাছ উদ্দিন নামে এক লিচু চাষি বলেন, ‘তিনি প্রতিবছর কমপক্ষে ১২ লাখ টাকায় লিচুবাগান বিক্রি করেন। মৌসুমের শুরুতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে তার লিচু বাগানের একটি পাতাও নেই। অনেক গাছ গোড়া থেকে উপড়ে গেছে।’

শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকার বাগান মালিকরা লিচু বিক্রি করে বছরে অনেক টাকা আয় করেন। এছাড়া স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে লিচু বিলিয়ে এ মৌসুমে এলাকাবাসী মিলে উৎসব করে। কিন্তু এবার প্রত্যেকটি বাগান মালিককে কাঁদতে হয়েছে।’

শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের এমদাদুল হক আকন্দ বলেন, ‘প্রতিবছর আমি এক-দেড় লাখ টাকায় লিচুবাগান বিক্রি করি। এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে লিচুবাগানে মুকুল দেখা দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আকস্মিক শিলাবর্ষণে সব গাছের পাতা ঝরে গেছে। এর সঙ্গে লিচুগাছগুলোও পাতাবিহীন ন্যাড়া হয়ে গেছে।’

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির কারণে শ্রীপুর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের নিচে লিচুর ফলন হয়েছে। তবে বাগান মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে ৩০-৪০ শতাংশ। শ্রীপুরে ছোট বড় লিচুবাগানের সংখ্যা প্রায় তিনশ’। এ অঞ্চলে ৭২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএসএম মূয়ীদুল হাসান জানান, লিচুগাছে কেবল মুকুল পরিপক্ব হচ্ছিল ঠিক সে সময় শিলাবৃষ্টি হয়ে সব পড়ে গেছে। শ্রীপুরে উৎপাদিত লিচু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হতো। এ অঞ্চলের লিচুর স্বাদ ও গন্ধ আলাদা। এবার শিলাবৃষ্টির কারণে বাগান মালিকরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.