পঞ্চগড়ে বাদামের ব্যাপক আবাদ

0

ধান নিয়ে যখন হাহাকার চলছে তখন পঞ্চগড়ের চাষিরা বাদাম নিয়ে আশায় বুক বেধেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনও পাবেন বলে আশাবাদি চাষীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য বারের থেকে এবার অনেকগুন বেশি বাদামের আবাদ হয়েছে। আবাদের তুলনায় খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ার কারণে বাদামের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব উপজেলাতেই কম বেশি বাদামের আবাদ হলেও করতোয়া বিধৌত দেবীগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। চাষিরা জানিয়েছেন, প্রতিবিঘায় খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে তারা প্রতিবিঘায় ১২ থেকে ১৫ মন বাদাম ঘরে তুলবেন। চাষিরা গতবছর প্রতিমণ বাদাম ১ হাজার ৮’শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন । এবারও সেই দাম পেলে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাবেন তারা । খরচ বাদ দিলে প্রতিবিঘায় লাভ হবে প্রায় ২৪ হাজার টাকা।

গতবারের থেকে দাম কম হলেও লোকসান হচ্ছে না কৃষকের। তাই অন্য আবাদের চেয়ে বাদামের দিকেই ঝুঁকছেন চাষিরা। এদিকে বাদামের ব্যবসা করে ভালো লাভ করছেন স্থানীয় বাদাম ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন পঞ্চগড়ের বাদামের মান ভালো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রফতানির পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা বাড়ছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলার কালিগন্জ ইউনিয়নের সুবাস এবং এলাকার চাষি মনসুর আলম জানান, চার বিঘা ভূইতে বাদাম করেছি। এবার ফলন ভাল আশা করছি ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করতে পারবো। ভাওলাগঞ্জ এলাকার কৃষক শুকুর আলী জানান অন্যান্য ফশলের থেকে বাদামে ঝুঁকি কম এবং খরচও কম। তাই এবার ৮ বিঘা আবাদ করেছি। গতবার ৩ বিঘা করেছিলাম। ভাল লাভ হয়েছিলো। তাই এবার সব জমিতেই বাদাম লাগিয়েছি।

এ অঞ্চলে রবি ও খরিফ এই দুই মৌসুমে বাদাম চাষ হয়। খরিফ মৌসুমে উৎপাদিত বাদাম বীজের জন্য ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এই দুই মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল বাদাম চাষ করে অধিকাংশ কৃষকই দেখছেন সাফল্যের মুখ। তাই বাদাম চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এই অঞ্চলের চাষিদের।

এদিকে চিনাবাদামকে কেন্দ্র করে দেবীগঞ্জে গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক কারখানায় বাদামের পক্রিয়াজাত হচ্ছে। এসব কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল জানান, জেলার অর্ধেক বাদাম উৎপাদিত হয় দেবীগঞ্জে । এবার এই উপজেলায় ৩ হাজার ৭’শ ৮০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৫’শ ৫ মেট্রিক টন।
এই জেলার মাটি বেলে-দোঁয়াশ মিশ্রিত বলে বাদাম চাষে উপযোগী। এ বছর পঞ্চগড়ে প্রায় ১০হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ জানান এই অঞ্চলের বাদাম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই বাদাম দেশ বিদেশে রফতানি করা হয়। উৎপাদিত বাদাম এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.